জব্দকৃত টাকা কোথায় যায়, কীভাবে খরচ হয়?

bcv24 ডেস্ক    ০৬:০৮ পিএম, ২০২১-০১-১৩    37


জব্দকৃত টাকা কোথায় যায়, কীভাবে খরচ হয়?

অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত আলোচিত পি কে হালদারের মালিকানাধীন চারটি প্রতিষ্ঠানের ৯৬০ কোটির মতো বিশাল অংকের টাকা মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এর আগেও দুর্নীতি এবং ক্যাসিনো বিরোধী আলোচিত অভিযান এবং আরও কিছু অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করার কথা জানিয়েছিল। সেই সঙ্গে জ্ঞাত উৎস বহির্ভূত আয়, দুর্নীতি কিংবা মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থও জব্দ করা হয় বলেও বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু

এই যেসব অর্থ বা টাকা জব্দ করা হয়, কী কারণে তা করা হয়? আর শেষ পর্যন্ত জব্দকৃত এসব টাকার গন্তব্যই বা কোথায়? সম্প্রতি এমনই সব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। যার জবাব মিলেছে আজকে প্রকাশিত বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে জব্দ হওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত চিত্র কারও কাছ থেকেই পাওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে সরকারের কয়েকটি সংস্থা কাজ করে, আর তাই এ ব্যাপারে সম্মিলিত তথ্য পাওয়া যায় না বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সাধারণভাবে বলা যায়, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ অর্থ কিংবা ব্যাংকে থাকা অর্থ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন জব্দ করতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থাকতে হবে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টে উপস্থাপিত তথ্যের বরাত দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, ২০২০ সাল পর্যন্ত নগদ অর্থ এবং সম্পত্তি মিলিয়ে দুদকের কাছে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার জব্দকৃত অর্থ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা দায়েরের পরে অর্থ জব্দ করা হতে পারে, আবার কোনও ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের আগেও অভিযান চালানোর সময় অর্থ জব্দ করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অর্থ জব্দ করার সাথে সাথে অবশ্যই মামলা দায়ের করা হয়।

খুরশীদ আলম খান বলেন, সাধারণত জ্ঞাতউৎস বহির্ভূত আয়, সন্দেহজনক লেনদেন, দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিং- এমন ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, "দুদক কোনও অনুসন্ধানের স্বার্থে মামলা দায়ের করার আগেও যদি সন্দেহজনক লেনদেন বা ঘুষের ঘটনার অভিযোগ পায়, তাহলে সেটা জব্দ করতে পারে। আর মামলা দায়েরের পরেও পারে।"

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেছেন, মানি লন্ডারিং এবং টেরর ফাইনান্সিং অর্থাৎ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে যে কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অর্থ জব্দ করা যায়। তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই অর্থ সাত মাস পর্যন্ত জব্দ করে রাখতে পারে ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

জব্দ টাকা কোথায় নেয়া হয়, প্রক্রিয়া কী?
অর্থ জব্দের পর যখন মামলা হবে, তখন দুদক, ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কিংবা অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই অর্থের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে হয়। নগদ অর্থ জব্দ করার ক্ষেত্রে আদালত নির্ধারণ করে যে ওই অর্থ কোথায় এবং কার জিম্মায় রাখা হবে।

এ বিষয়ে দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, জব্দ অর্থ যে প্রতিষ্ঠানের কাছে রাখা হচ্ছে - কোনও ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করে আদালতে বিষয়টি অবহিত করতে হয়। 

তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত মামলার সুরাহা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ওই জব্দকৃত অর্থ কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। "যদি প্রমাণ হয় যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং আদালতের সাক্ষ্য প্রমাণে সেটি প্রমাণিত হয়, তখন জব্দকৃত অর্থ রাষ্ট্র বরাবরে বাজেয়াপ্ত করা হয়।"

জব্দ করা টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হলেও রাষ্ট্র সেই অর্থ খরচ করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আদালত এ ব্যাপারে রায় দেয় এবং রাষ্ট্রকে জব্দ করা অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রমাণ করতে পারে যে তারা নির্দোষ, সেক্ষেত্রে আদালতের রায় সাপেক্ষ তারা জব্দ অর্থ ফেরত পেতে পারে।

এই অর্থ কি সরকারের আয়?
জব্দ করা অর্থ সাধারণত মামলার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে মামলার রায় যদি রাষ্ট্রের অনুকূলে যায়, তাহলে জব্দ হওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থাৎ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে যায়।

ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান জানান, মানি লন্ডারিং বা টেরর ফাইনান্সিংয়ের ক্ষেত্রে যদি অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অপরাধীর শাস্তি হয়। এক্ষেত্রে কারাদণ্ডের শাস্তি হলে অপরাধীর ৪-১২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। তবে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জব্দ করা অর্থের দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাকৃত অর্থ রাষ্ট্রের আয় বা রাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই অর্থ তখন রাষ্ট্র প্রয়োজন অনুসারে খরচ করতে পারে।

রিটেলেড নিউজ

‘অভিবাসন খাতের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে’

‘অভিবাসন খাতের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে’

bcv24 ডেস্ক

কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উত্তরণ এবং বাংলাদেশের অভিবাসন খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সব প্রত... বিস্তারিত

বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনীতি আরো সংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনীতি আরো সংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

bcv24 ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতিকে আরও সংহত করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বার... বিস্তারিত

রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়লো এক মাস

রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়লো এক মাস

bcv24 ডেস্ক

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানো হয়েছে এক মাস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বছরের আয়কর রিটার্ন জমা ... বিস্তারিত

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৫ প্রকৌশলীসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৫ প্রকৌশলীসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

bcv24 ডেস্ক

প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫ প্রকৌশলীসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দম... বিস্তারিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অভিযাত্রা জোরদারে আগ্রহী ভারত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অভিযাত্রা জোরদারে আগ্রহী ভারত

bcv24 ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অভিযাত্রায় অংশীদারিত্ব জোরদারে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহ... বিস্তারিত

ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

bcv24 ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে আর্তমানবতার সেবায় জনগণ এবং সরকারের সহযোগী হিসে... বিস্তারিত

সর্বশেষ

চীন সফরে কেরি, জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনা শুরু

চীন সফরে কেরি, জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনা শুরু

bcv24 ডেস্ক

জলবায়ু সংক্রান্ত মার্কিন দূত জন কেরি বৃহস্পতিবার সাংহাইয়ে তার চাইনিজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে সাক্ষা... বিস্তারিত

৫ দেশে ফ্লাইট চলবে ১৭ এপ্রিল থেকে

৫ দেশে ফ্লাইট চলবে ১৭ এপ্রিল থেকে

bcv24 ডেস্ক

প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে ১৭ এপ্রিল থেকে পাঁচটি দেশে ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ ... বিস্তারিত

হাসপাতালে ভর্তি আকরাম খান

হাসপাতালে ভর্তি আকরাম খান

bcv24 ডেস্ক

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিসিবির পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ... বিস্তারিত

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

bcv24 ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন  বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফ... বিস্তারিত