মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫২ পিএম
অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে দুর্বল হয়ে ঢোকার পরও বিভিন্ন জেলায় ঝড়ে গাছ ভেঙে ও ঘরচাপা পড়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বরগুনায় দাদি-নাতি, নোয়াখালীতে দুই শিশু, ভোলায় এক নারী, লক্ষ্মীপুরে এক বৃদ্ধ আর পটুয়াখালীতে নিহত হয়েছেন এক তরুণ। এছাড়া এসব জেলায় সহস্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
বরগুনা: ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়ার খাল এলাকায় ঘরের নিচে চাপা পড়ে দাদি ও নাতির মৃত্যু হয়েছে। মৃত নুরজাহান বেগম (৬০) কালিয়ার খাল এলাকায় আবদুল বারেকের স্ত্রী ও তার নাতি জাহিদুল ইসলাম (৮)। এছাড়া ঝড়ে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে নোয়াখালীর চর আমানউল্লাপুর ইউনিয়নে একজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে ঝড়ে নিহত হয়েছে দুই শিশু। এ ছাড়া পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে চার শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, ভোরের দিকে ঘরচাপা পড়ে চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মো. ইসমাইল (২) নিহত হয়। একই সময় চরজব্বর ইউনিয়নে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ছাড়া চরওয়াপদা ও চরজব্বর ইউনিয়নে ঝড়ে গাছপালা ও শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, সকাল ৯টার দিকে গাছের ঢাল পড়ে কাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু হানিফের মেয়ে নাজমুন নাহার (১২) নিহত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, ঝড়ে চার শতাধিক ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই শ ঘর।
ভোলা: ভোলায় ঘরচাপা পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। আর শুধু সদর উপজেলায় দুই শতাধিক বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন জানান, গতকাল শনিবার সকালে দক্ষিণ দিঘলদি এলাকায় ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়লে রানী বেগম (৪৫) নামে এই নারী চাপা পড়ে নিহত হন। রানী দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সামসুল হকের স্ত্রী। বঙ্গোপসাগরের দ্বীপজেলা ভোলায় গত শুক্রবার রাত থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে মাটি নরম হওয়ায় ঝড়ো হাওয়ায় এসব ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। ইউএনও কামাল বলেন, দনিয়া, কাতিয়া, ইলশা, দক্ষিণ দিঘলদিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসল, রাস্তা-ঘাট ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইফতারুল আলম স্বপন জানান, শুধু তার ইউনিয়নেই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলার ইউএনও নূরুল আমিন বলেন, তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে সকালে লালমোহনের কচুয়াখালী চর থেকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একটি ট্রলার ডুবে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কচুয়াখালী চর থেকে জেলে নাছির উদ্দিন বলেন, গতকাল শনিবার সকালে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মাইনুদ্দিনে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে চার-পাঁচজন আহত হন। তবে কেউ নিখোঁজ হয়নি। ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচির উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, ভোলায় বাতাসের গতিবেগ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। এখনও ৭ নম্বর সংকেত বহাল রয়েছে। কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধ। আহত হয়েছে ১০ জন। বিধ্বস্ত হয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি। রামগতি উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা (ইউএনও) রফিকুল হক বলেন, ঘরচাপায় চরআলগী ইউনিয়নের নেয়ামতপুর এলাকায় বেয়াইবাড়ি বেড়াতে এসে আনোয়ারা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। ঝড়ে রায়পুর ও রামগতিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। মেঘনার পানির উচ্চতা চার-পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় জেলার রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মনসাতলী এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী হাবিবুর রহমান মুসুল্লি (২৫) নামে এই তরুণ। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর রহমান বলেন, গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হলে হাবিবকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান। হাবিব কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওরকা পল্লীর বাসিন্দা হারুন মুসুল্লির। এ দুর্ঘটনায় আরও দুই জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কুয়াকাটা পৌরমেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, হাবিব মোটরসাইকেলে করে যাত্রী বহন করেন। যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বাতাসের তীব্রতায় একটি রেইনট্রির ডাল ভেঙে পড়লে তারা আহত হন।
চাঁদপুর: চাঁদপুরে দেড় শতাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, শিলারচর, খাসকান্দি, মান্দের বাজার গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বহু গাছ-পালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় পাঁচজন আহত হলেও তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছাত্তার রাঢ়ী জানান, তার ইউনিয়নে চার-পাঁচজন ঘর ভেঙে আহত হয়েছেন। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম জানান, হাইমচর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের চরউম্মেদসহ কয়েকটি চরাঞ্চলে প্রায় ৪০টি বসতঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত দেশের উপক‚লীয় জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮৬ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র শনিবার সকালে এই তথ্য জানায়।
সেখানে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮৬ জন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে যাদের বাড়ি তাদের অনেকে বাড়িতেই অবস্থান করছেন, ঝড় শুরুর কিছুক্ষণ আগে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নেন। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী গত শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শনিবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে। ঝড়টি দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে ঢোকায় আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার আভাস দেওয়া হয়। আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠা মানুষদের নিরাপত্তা এবং নিরাপদে ঘরে ফেরার উপর জোর দেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ।
কেন্দ্রের ওই কর্মকর্তা বলেন, ঝড় শেষ হলে বিভিন্ন জেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আসতে শুরু করবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘূর্ণিঝড় ফণীর সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। দেশের ১৯ জেলার ১৪৭টি উপজেলার ১৩ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত; সেখানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। এই ১৯ জেলায় ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ত্রাণ সচিব শাহ কামাল জানিয়েছেন, নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্বেচ্ছাসেবকসহ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা উপকূলের মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত