সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৪ এএম
দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) মান তদারকিতে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওই লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষ মনিটরিং টিম। মূলত কিছুসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই আইসিইউ পরিচালনার পাশাপাশি উচ্চ আইসিইউ ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চিকিৎসা সুবিধা খুবই সীমিত। দেশের চার-ভাগের তিন ভাগ সরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসা সুবিধা নেই। অথচ প্রয়োজনের সময় আইসিইউ চিকিৎসা সুবিধা না পেলে অনেক রোগীই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অনেক প্রাইভেট হাসপাতালে এ চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও তা ব্যয়বহুল। গরিব রোগীর পক্ষে আকাশচুম্বি ওই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ চিকিৎসাসেবা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ অনেক বেসরকারি হাসপাতালই আইসিইউর নামে উচ্চ চিকিৎসা ফি আদায় করলেও সেখানে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকে না। বরং সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ডেকে নিয়ে নামমাত্র আইসিইউ সেবার কাজ চালানো হয়।
সূত্র জানায়, আইসিইউ যে কোন হাসপাতালের একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র। তাতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র, হার্ট মনিটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি থাকে। সেখানে মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসা দেন এ্যানেসথেসিয়া এ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আর ইমার্জেন্সি চিকিৎসা বলতে দুর্ঘটনা বা অপঘাতের রোগীর জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা। সেক্ষেত্রে অক্সিজেন, ওষুধ, ছোটখাটো অপারেশন, রক্ত ও আইভি স্যালাইনের ব্যবস্থা। আইসিইউ চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি। আবার সেটি চালু করতেও অনেক টাকার প্রয়োজন। ১০ বেডের একটি আইসিইউ চালু করতে কমপক্ষে ২ কোটি টাকা লাগে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সও নিয়োগ দিতে হয়। তাই ছোটখাটো হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা থাকে না। দুর্ঘটনার রোগীর চেতনা থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে এবং এ্যাজমা বা অন্য কোন রোগের কারণে এমনটি হলে দু-এক ঘণ্টা বিলম্বে মেডিসিন বা আইসিইউ সেবা পেলেও রোগী বেঁচে যান। সড়ক দুর্ঘটনাসহ যে কোন অপঘাতে জ্ঞান হারানোর পর মানুষের শরীরে মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট অক্সিজেন থাকে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে খুব কম মানুষই ইমার্জেন্সি মেডিসিনের নাগাল পায়।
সূত্র আরো জানায়, অনেক বেসরকারি হাসপাতালই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের নামে উচ্চ চিকিৎসা ফি আদায় করছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই চলছে রাজধানীর কিছুসংখ্যক হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মেডিক্যাল উপকরণ ও ওষুধের পরিমাণ দেখিয়ে বিল বাড়িয়ে দেয়া হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা হয় না। দু’তিনটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সব রোগের চিকিৎসা করানোর ব্যবসা চালানো হয়। অনেক হাসপাতালে আইসিইউর শতকরা ৭০ ভাগ শয্যার সঙ্গে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নেই। শতকরা ৬০ ভাগ আইসিইউতে প্রতিটি শয্যার জন্য একজন করে সেবিকা নেই। আর যেসব সেবিকা আছেন তাদের শতকরা ৬৪ ভাগেরই প্রশিক্ষণ নেই।
তাছাড়া টাকা খরচ করেও কিছু হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই উচ্চ ফি ও সীমিত শয্যার কারণে আইসিইউ সেবা নিতে পারে না অনেক দরিদ্র রোগী।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিইউতে রোগীকে ওঠা-নামা, কাত করানোসহ বিভিন্ন অবস্থানে রাখার জন্য বিশেষায়িত শয্যার দরকার। প্রত্যেক রোগীর জন্য পৃথক ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) ও কার্ডিয়াক মনিটর (হৃদযন্ত্রের অবস্থা, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা, কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি, রক্তচাপ পরিমাপক), ইনফিউশন পাম্প (স্যালাইনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাত্রা নির্ধারণ যন্ত্র) দরকার। আইসিইউতে শক মেডিশন (হৃদযন্ত্রের গতি হঠাৎ থেমে গেলে তা চালু করার যন্ত্র), সিরিঞ্জ পাম্প (শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে যে ওষুধ প্রবেশ করানো হয় তার মাত্রা নির্ধারণের যন্ত্র), ব্লাড ওয়ার্মার (রক্ত দেয়ার আগে শরীরের ভেতরকার তাপমাত্রার সমান করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র) থাকবে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এবিজি মেশিন (মুমূর্ষু রোগীর রক্তে বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নির্ধারণ) থাকতে হবে। জরুরি পরীক্ষার জন্য আইসিইউসির সঙ্গে একটি পরীক্ষাগার থাকাও আবশ্যক।
মূলত জটিল রোগের চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে আইসিইউর সেবা নিতে হয়। চিকিৎসকরাও এই সেবার কথা ব্যবস্থাপনাপত্রে লেখেন। কিন্তু খরচ করেও কিছু হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আইসিইউ একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আইসিইউগুলো কে, কীভাবে চালাচ্ছে, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারিতে থাকা প্রয়োজন। রাজধানীর নামী হাসপাতালে আইসিইউর দৈনিক খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং মাঝারি হাসপাতালে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বলা হলেও রোগীকে তার দ্বিগুণ টাকা দিতে হয়।
অন্যদিকে প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) নামে উচ্চ ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু প্রতিদিন প্রতি বেডের পেছনেই গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বাড়তে থাকে আইসিইউর দৈনিক চিকিৎসা ব্যয়। প্রতিদিন গড়ে একজন রোগীকে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। উচ্চ হারের কারণে প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউ সেবা গ্রহণ করতে পারে না স্বল্প আয়ের লোকজন। টাকার অভাবে অনেক রোগীকেই আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়। অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা থাকার পরও প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউ ফি কমানো সম্ভব। অনেক রোগীই আইসিইউ ফি ও ওষুধপত্রের টাকা হাতে নিয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু দু’দিন পরই আইসিইউ ফিসহ চিকিৎসা খরচ লাখ টাকার বেশি হয়ে যায়। কিন্তু অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষফি বেড়ে যাওয়ার কোন ব্যাখ্যা পর্যন্ত দিতে চায় না। আর পুরো টাকা পরিশোধ না করলে রোগী আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজসহ জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের বিষয়টি সরকারি বিবেচনায় রয়েছে। জেলা সদর পর্যায়ের হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা উদ্যোগী হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা যাবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সার্বিক সহযোগিতা করবে সরকার। এ উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে। উচ্চ ফি নেয়ার প্রতিযোগিতাও বেশি থাকবে না। পাশাপাশি রোগী ও তাদের অভিভাবকের আরও সচেতন হওয়া দরকার। দেশের বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালের আইসিইউর মান পর্যবেক্ষণে মাঠে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদতফতরের বিশেষ মনিটরিং টিম। মানহীন আইসিইউ দিয়ে মরণাপন্ন রোগীর জীবন নিয়ে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত