সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৯ এএম
বিদেশে কর্মরত রয়েছে এদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী। আর বিদেশে কর্মরত ওসব কর্মীদের অনেকেই কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওসব ঘটনায় অনেকে মারাও যায়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে ওসব প্রবাসী কর্মীদের লাশ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ওসব প্রবাসী কর্মীর স্বজনরা দিনের পর দিন মন্ত্রণালয়ে ঘুরে নিজ খরচেও লাশ আনতে পারে না। ফলে বাংলাদেশী প্রবাসী কর্মীর লাশ মাসের পর লাশ সংশ্লিষ্ট দেশেই পড়ে থাকছে। যা এক অমানবিক পরিস্থির জন্ম দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে বৈধ কর্মীর লাশ আনা বাবদ সরকারের পক্ষ থেকে
৩০ হাজার টাকা দেয়ার বিধান থাকলেও ওই টাকা পেতেও নানা কাঠখড় পোড়াতে হয়। আর লাশ দেশে আনার পর সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ লাখ টাকা নিহত পরিবারকে দেয়ার আইন রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয় ওই টাকা দিতেও নানা টালবাহানা করে। ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেও নিহত স্বজনদের টাকা গুনতে হয়। টাকা না দিলে ক্ষতিপূরণের টাকা মেলে না। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশী কর্মীও বিদেশে মৃত্যুর পর মাসের পর মাস কেটে গেলেও মৃত অনেকের পরিবারই নানা কারণে ক্ষতিপূরণ পায়নি। বিগত একযুগের বেশি সময়ে ৩২ হাজারেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে এসেছে। কিন্তু তার মধ্যে ১২ হাজারের বেশি পরিবার সরকারি ক্ষতিপূরণ পায়নি।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় মতে, আইনি জটিলতায় কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে দেরি হয়। আবার যদি কারোর অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে মৃত্যু ঘটে তার দায় নেয় না মন্ত্রণালয়। ফলে ওই লাশ স্বজনরা দেশে আনতে মন্ত্রণালয়ের কোন সহযোগিতাই পায় না। এমন অবস্থায় ওই লাশ আর দেশেই আসে না। অথচ বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশী কর্মীরা হরহামেশায়ই বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হয়।
মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী কর্মীরা কাজ করছে। সম্প্রতি সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী কর্মী নিহত হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিজ উদ্যোগে তাদের লাশ দেশে আনার কথা। কিন্তু লাশের স্বজনরা দিনের পর দিন মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তেমন কোন সহযোগিতা পায়নি।
সূত্র জানায়, বিগত দশ বছর আগে সৌদি আরবেই মারা গেছে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মী। তাদের অনেকের লাশ দেশেই আনা হয়নি। মূলত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে লাশগুলো দেশে আসেনি। স্বজনরা নিজেদের টাকা ব্যয় করে হলেও লাশ দেশে আনার জন্য মন্ত্রণালয়ে বার বার গিয়েও কোন সহযোগিতা পাননি। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে প্রায় ৬ হাজার পরিবার অপেক্ষা করছে।
ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মিললেও এখন পর্যন্ত কোন টাকাই পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বিদেশে যেসব কোম্পানিতে নিহত বাংলাদেশী কর্মীরা কাজ করেছে সেখান থেকেও কোন টাকা পাওয়া যায়নি। ওই টাকা আদায়ের জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন ও দূতাবাসের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূণ।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোন কাজই করে না। সরকারি হিসেবে ২০০৫ থেকে পর্যন্ত ৩২ হাজার ৪৬৭ জন কর্মীর মরদেহ দেশে এলেও এখনো ১২ হাজার ২৪০ জনের পরিবার সরকারী ক্ষতিপূরণ পাননি।
সূত্র আরো জানায়, প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর পর প্রায় ৬ হাজার পরিবারের কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় হয়নি। তারমধ্যে সৌদি আরবে ৩ হাজার ১৪৬, ওমানে ৫১১, মালয়েশিয়ায় ৪৪৫, আবুধাবিতে ৪০৬টিসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক হাজার ক্ষতিপূরণের নথি আটকে আছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দাবি- আইনগত জটিলতায় কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে দেরি হয়। তবে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর পর কম সময়ে ক্ষতিপূরণ পেতে আইন উপদেষ্টা নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এদিকে শ্র ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে মৃত কর্মীদের দুই জায়গা থেকে ক্ষতিপূরণ পাবার কথা। প্রথমত বিদেশে কর্মরত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বেশিরভাগ কর্মীই ওই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ আইনের নানা প্যাঁচে ক্ষতিপূরণের টাকা বেশির ভাগ পরিবার পাচ্ছে না। যদিও দাবি উঠেছে বিদেশে কোন কর্মী দুর্ঘটনায় মারা গেলে তাদের পরিবারকে সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আবার যেসব কর্মী বিদেশ যাবে তাদের নামে বাধ্যতামূলকভাবে ইন্সুরেন্স করতে হবে।
যাতে পরিবারগুলো সরকারের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণের টাকা পায়, আবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ পায়। আর তাহলেই নিহত কর্মীর পরিবার একটা কিছু করে খেতে পারবে। কারণ এমনও পরিবার আছে যার একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিরই মৃত্যু হয়েছে। ওই পরিবার যাতে ভালভাবে চলতে পারে তার জন্য এসব দাবি বাস্তবায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তিপূরণ দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, যাদের পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। তাদের কাগজপত্র ছাড়াই নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেন সহজ হয় সেক্ষেত্রে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। কোন কর্মী মারা গেলে তার পরিবার যাতে সহজে ক্ষতিপূরণ পেতে পারে তার জন্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাছাড়া ওই প্রতিষ্ঠান থেকে যতো দ্রুত সম্ভব ক্ষতিপূরণ উদ্ধারে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, লাশ আনা নিয়ে নানা বিষয় রয়েছে। এখানে অনেক আইনি জটিলতা আছে। বৈধ কর্মী হলে মন্ত্রণালয় থেকে লাশ আনা বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। লাশ দেশে আনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে আবেদন করলে পরিবারকে আরো ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত