সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৫ এএম
দেশের নিম্ন আদালতগুলোতে চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতে তা খুব ধীরগতিতে চলছে। ফলে হাইকোর্ট বিভাগে ফাঁসির মামলাজট বাড়ছে। আর সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর সাড়ে ৭শ'র বেশি মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত (ডেথ রেফারেন্স) মামলা। তার মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, পিলখানা হত্যা মামলা, চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মামলাসহ উল্লেখযোগ্য আলোচিত অনেক মামলাই রয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৭২১টি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৩১টি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন-সংক্রান্ত মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আর বছরের পর বছর ধরে
সুপ্রিম কোটের উভয় বিভাগে ঝুলে থাকা ওসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রার্থী ও আসামি উভয়পক্ষই হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় বাদী ও আসামিপক্ষ উভয়ই আদালতপাড়ায় ঘুরতে ঘুরতে বিপন্ন বোধ করছে। আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৭২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৩টি মামলা। তাছাড়া চলতি বছরের গত ৩ মাসে আরো কিছু ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আরো ১৪০টি মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বিগত ২০১৭ সালে ৬৪০টি, ২০১৬ সালে ৫৩৫টি, ২০১৫ সালে ৪১৯টি এবং ২০১৪ সালে ৩৬৩টি, ২০১৩ সালে ৪০৬টি, ২০১২ সালে ৪৫৬টি, ২০১১ সালে ৫৩৫টি, ২০১০ সালে ৫৪২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা বিচারাধীন ছিল। গত ১০ বছরে ওই ধরনের মামলা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে ২০১৪ সালের ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছে। সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় কনসেলে আসামির সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন কারাগারে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রায় এক হাজার ৭ শতাধিক আসামি ছিল। তাদের অনেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার এক আসামি সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড গত মার্চ মাসে কার্যকর হয়েছে। তার আগে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসির রায় ২০১৭ সালে কার্যকর হয়।
সূত্র জানায়, বিচারিক (নিম্ন) আদালতে কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। হাইকোটের রায়ের পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করে থাকে। তারপর আপিলে বিভাগে তা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়েও সংক্ষুব্ধ পক্ষ আবেদন করতে পারে। ডেথ রেফারেন্সের মধ্যে অধিকাংশই হত্যা মামলা। তাছাড়া নারী নির্যাতন আইনে গৃহবধূ-গৃহকর্মী হত্যা, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু মামলা অনুপাতে ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ আরো বাড়ানো জরুরি। কারণ কোনো কোনো ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে ৪/৫ বছর সময় লেগে যায়। অনেক মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানিও হয়ে থাকে। আর মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিকে দীর্ঘদিন কনডেম সেলে রাখায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যা উচিত নয়। সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
সূত্র আরো জানায়, হাইকোর্ট বিভাগে তিনটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে প্রতিমাসে গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে তিন থেকে চারটি মামলা। আদালতে বার্ষিক ছুটি এবং বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ ভাঙার কারণে ওসব ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি করা হচ্ছে না। ফলে দিন দিন এরকম মামলার সংখ্যা বাড়ছে। হাইকোর্ট বিভাগে যেভাবে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে বর্তমান বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি করতে আরো ৫/৬ বছর সময় লাগবে। হাইকোর্টে সময় মতো ওসব মামলা শুনানি না হওয়ায় বছরের পর বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জেলখানায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এদিকে পেপারবুকের অভাবে অনেক মামলা সময় মতো নিষ্পত্তি হচ্ছে না। পেপারবুক তৈরি হয়ে আদালতে না আসায় ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে অন্য মামলার শুনানি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ নিতে, তালিকাভুক্ত মামলার দ্রুত তদন্ত করতে, ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল মামলা হাইকোর্টে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পেপারবুক তৈরি এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে সার্বিক সহায়তা করতে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই মনিটরিং সেলের কোনো খোঁজ নেই। আর নিম্ন আদালত থেকে ৩ বছর আগে হাইকোর্টে আসা অনেক ফাঁসির মামলাও হাইকোর্ট বিভাগ শুনানির কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
ডেথ রেফারেন্স মামলা পরিচালনাকারী সংশ্নিষ্ট আইনজীবীদের মতে, বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পেপারবুক আদালতে সময় মতো সরবরাহ করতে পারছে না। বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন হাইকোর্ট বিভাগের কয়েক হাজার কপি কজলিস্ট তৈরি করছে। সংশ্নিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন, উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি করতে বেঞ্চ সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ফাঁসির রায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে পেপারবুক তৈরিসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য অবকাঠামোগত অন্যান্য সুবিধাও বাড়ানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে বেঞ্চ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। হাইকোর্টে তিনটি বেঞ্চ ফাঁসির মামলা শুনছেন, তারপরও মামলার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বেঞ্চ বাড়ানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার। বেঞ্চ বাড়ানো হলে মামলাজট কমে আসবে।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান জানান, বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স মামলা শুনানির জন্য হাইকোর্টে তিনটি বেঞ্চ রয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পর ওসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বেঞ্চ বাড়িয়েছেন। ডেথ রেফারেন্স শাখায় কাজের গতি আনতে দক্ষ কর্মচারীদের পদায়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি নিজেও ডেথ রেফারেন্স শাখা পরিদর্শন করছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত