সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬ ০৭:১২ এএম
এফএনএস আর্ন্তজাতিক: ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতাদের বিষোদগীরণ পুরনো নয়। নতুন করে আবার সেই ঘটনা ঘটিয়েছেন রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদনলাল সাইনি।
বৃহস্পতিবার জয়পুরে মেবারের রাজা মহারাণা প্রতাপ সিংহের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা সাইনি মোগল সম্রাট আকবরের ‘নারীলিপ্সু’ একটি চরিত্র দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন।
তার দাবি, আকবর ‘নারীসঙ্গ উপভোগ’ করার জন্যই মীনা বাজার চালু করেছিলেন এবং প্রায়ই তিনি সেখানে ছন্দবেশে ঢুঁ দিতেন।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, সাইনির এই মন্তব্যে যথারীতি প্রতিবাদ এসেছে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। ভারতের প্রাচীন এই দলটি বলছে, আকবর সম্পর্কে সাইনির মন্তব্য ‘ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা’।
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে মোগল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর নানা কারণেই আলোচিত। ১৫৪২ সালের ১৫ অক্টোবর অমরকোটে জন্ম নেওয়া আকবর বাবা দ্বিতীয় মোগল সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর যখন সিংহাসনে আরোহণ (১৫৫৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি) করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
বিভিন্ন ইতিহাসবিদের তথ্য মতে, বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত আকবরকে নিজের সিংহাসন রক্ষা করা ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের বিদ্রোহ দমন, রাজ্য বিস্তার, শত্রুর আক্রমণ মোকাবেলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। সে সময় রাজপুতদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার স্বার্থে আকবর বিভিন্ন রাজবংশের রাজকন্যাদের বিয়েও করেন। সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন অবদানের জন্য ইতিহাসে তাকে ‘মহান আকবর’ বা ‘আকবর দ্য গ্রেট’ও বলা হয়ে থাকে।
এই জায়গাটিতেই আপত্তি বিজেপি নেতা মদনলাল সাইনির।
তিনি বলেন, “মোগল সম্রাট আকবর মোটেই মহান ছিলেন না। নারীসঙ্গ উপভোগ করতে তিনি প্রায়ই মীনা বাজারে ঢুঁ মারতেন ছদ্মবেশে। সেখানে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে দুর্বব্যবহার, দুষ্কর্ম করতেন। এসব ঘটনা ইতিহাসে লেখা রয়েছে, সারা বিশ্বই জানে।
সম্রাট আকবরই চালু করেছিলেন মীনা বাজার, যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। মীনা বাজার ছিল শুধুই নারীদের কর্মক্ষেত্র।
১৬ শতকের শেষ ভাগে আঁকা আকবরের প্রতিকৃতি ১৬ শতকের শেষ ভাগে আঁকা আকবরের প্রতিকৃতি রাজস্থান বিজেপির সভাপতি বলেন, “আকবর মীনা বাজারে গিয়ে বিকানেরের রাজপুত রানি কিরণ দেবির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় রানি এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে, তিনি আকবরকে মাটিতে ঠেলে ফেলে দিয়ে বুকে তলোয়ার ঠেকিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত রানির কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল মোগল সম্রাটকে। ওই ঘটনার পর মীনা বাজারও বন্ধ হয়েছিল।”
রাজস্থানে বিজেপি ক্ষমতায় থাকার সময় স্কুলের পাঠ্যবই থেকে সম্রাট আকবরের নামের আগে ‘মহান’ বিশেষণটি বাদ দেওয়া হয়। স্কুলের ইতিহাস বইয়ে তখন এও লেখা হয়, হলদিঘাটের যুদ্ধে আকবর পরাজিত হয়েছিল মেবারের মহারাণা প্রতাপের কাছে, পরে অবশ্য সংশোধন করা হয়।
ইতিহাস বলছে, কয়েকটি কারণে আকবরের মেবার আক্রমণ অবশ্যাম্ভাবী হয়ে পড়েছিল। মেবারের রাজা রাণা উদয় সিংহ আকবরকে ঘৃণার চোখে দেখতেন এবং তিনি মালবের রাজা বাজবাহাদুরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাছাড়া গুজরাট আক্রমণ করতে চিতোর দখল করা জরুরি ছিল।
১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেবারের রাজধানী চিতোর আক্রমণ করলে শুরুতেই উদয় সিংহ পালিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন। কিন্তু জয়মল এবং পত্ত নামক দুইজন প্রায় চার মাস ধরে মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে দুই সেনাপতি নিহত হলে, দুর্গের ভিতরের নারীরা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে চিতোর আকবরের দখলে আসে। আসফ খাঁকে মেবারের শাসনকর্তা নিয়োগ করা হয়।
১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে উদয় সিংহের মৃত্যুর পর তার ছেলে রাণা প্রতাপ সিংহ ফের মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। খবর পেয়ে আকবর সেনাপতি মানসিংহ এবং আসফ খাঁর অধীনে বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে হলদিঘাটের যুদ্ধের একপর্যায়ে মোগল বাহিনীর সামনে টিকতে না পেরে বাবার মতোই পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে যান প্রতাপ সিংহ।
তবে বিজেপি নেতা সাইনির মতে, মহারাণা প্রতাপের সঙ্গে আকবরের কোনো তুলনাই হয় না।
“আমি মনে করি, বই থেকে ওর নাম মুছে দিয়ে মহারাণা প্রতাপের সম্মান, কৃতিত্বকে খাটো করা যাবে না। মহারাণা প্রতাপ রয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। সেখান থেকে তাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাকে ইতিহাস থেকেও মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ওরা (কংগ্রেস) হয়তো বই থেকে চারটি লাইন মুছে দিতে পারে। কিন্তু ওকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।”
এদিকে সাইনির বক্তব্যের নিন্দা করে কংগ্রেস সভাপতি অর্চনা শর্মা বলেছেন, “মহারাণা প্রতাপের বীরত্ব, তার গুণের কথা গোটা দেশ জানে। দেশ গর্ব বোধ করে। কিন্তু বিজেপি নেতা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এতে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা দেখা দেবে। সামাজিক ঐক্য নষ্ট হবে। তাই তা নিন্দনীয়।”
কেন্দ্রে ও বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আগেও বেশ কয়েক বার অনেক রাস্তার মোগল আমলের নাম বদলে ফেলেছে। গত বছর বিজেপি সাংসদ মহেশ গিরি মোগল সম্রাট আউরঙ্গজেবকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে ... বিস্তারিত
আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরব ও রাশিয়া দিনে যথাক্রমে ১০ লাখ ও তিন লাখ ব্যারেল তেল কম উত্তোলন করব... বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দুটি সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রধান মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্... বিস্তারিত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অঙ্গীকার করেছেন, যুদ্ধের পর ইসরায়েল গাজার 'সার্বি... বিস্তারিত
According to reports from the UN Secretary-General on children and armed conflict, a total of 2,985 children were killed across 24 countries in 2022, 2,515 in 2021, and 2,674 in 2020 across 22 countries, Save the Children said.“One child’s death is one t... বিস্তারিত
৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নির্মাণ ব্যয় ও গ্যাসের মূল্য ব... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত