সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৫ এএম
দেশে কর্মরত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানিগুলো আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোথাও টাকা পাচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরেই নগদ অর্থের মূল উৎস হিসেবে ব্যাংকগুলো থেকেও ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো টাকা পাচ্ছে না। ফলে কলমানি মার্কেটই হয়ে উঠেছে তাদের প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর প্রধান ভরসা। মূলত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কারণেই ইমেজ সংকটে পড়েছে লিজিং কোম্পানিগুলো। তাছাড়া ব্যাংকগুলোতে আর্থিক ঘাটতি থাকায় লিজিং কোম্পানিগুলো চাহিদা মতো অর্থ পাচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে লিজিং কোম্পানিগুলোতে আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির পরিচালকরা নামে-বেনামে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। ফলে বেড়ে গেছে ওই খাতে খেলাপি লিজিংয়ের পরিমাণ। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করা টাকাই ফেরত আসছে না। আর তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোও লিজিং কোম্পানিগুলোকে অর্থ দিচ্ছে না। পাশাপাশি অন্য কোনো উৎস্য থেকেও তারা তহবিলের জোগান পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, লিজিং খাতে এখন কেউ আর টাকা রাখতে ভরসা পাচ্ছে না। ফলে কয়েকটি লিজিং কোম্পানির কারণে পুরো খাতের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য একাধিকবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে দুই বছর ধরেই ওই খাতের কোনো উন্নতি হয়নি।
সূত্র জানায়, বর্তমানে অধিকাংশ লিজিং কোম্পানির মূলধন নেই, আমানত নেই। ফলে লিজিং কোম্পানিগুলো তারল্য সংকটে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চরম পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো নিজেদের আর্থিক সংকটে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পর্যন্ত দিতে পারছে না। পাশাপাশি লিজিং কোম্পানিগুলো সঞ্চয়কারীদের কাছ থেকে ব্যাংকের মতো সহজে আমানত নিতে পারে না। তাদের আমানত নেয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু শর্ত আছে। তার মধ্যে ৩ মাসের কম মেয়াদি কোনো আমানত নিতে পারে না। তবে এর বেশি মেয়াদি আমানত নিতে পারে। কিন্তু ব্যাংকগুলো চলতি আমানতসহ যে কোনো মেয়াদি আমানত নিতে পারে। তাছাড়া তারা নিজেরা সরাসরি আমানতের টাকা পরিশোধ করতে পারে না। ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের বড় উৎসই হচ্ছে ব্যাংক। তাদের কাছ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ী আমানত ও কলমানি থেকে অর্থ নেয়। লিজিং কোম্পানিগুলোতে প্রায় সব ব্যাংকেরই স্থায়ী আমানত রয়েছে। তার বাইরে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে থেকে সামান্য কিছু আমানত আসে। বর্তমানে তাদের মোট তহবিলের মধ্যে আমানত থেকে আসে ৬০ শতাংশ। এখন আমানতের বড় অংশই হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে চড়া সুদে নেয়া মেয়াদি আমানত। আর কোম্পানির মূলধন থেকে আসে ১৫ শতাংশ আমানত। কিন্তু কোম্পানিগুলোর খেলাপি লিজের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ২০ শতাংশের মতো কলমানি মার্কেটে ধার করা থেকে আসে।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট চলছে। সরকারি খাতের ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক ছাড়া প্রায় সব ব্যাংকেই তারল্য সংকট রয়েছে। যে কারণে ব্যাংকগুলোও এখন লিজিং কোম্পানিতে আমানত রাখতে পারছে না। উল্টো অনেক ব্যাংক স্থায়ী আমানত হিসেবে লিজিং কোম্পানিতে রাখা আমানতের অংশ তুলে নিচ্ছে। কলমানি মার্কেট থেকেও লিজিং কোম্পানিগুলো ধার পাচ্ছে না। কেননা কয়েকটি লিজিং কোম্পানি কলমানি থেকে একদিনের জন্য ধার করে তা পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে তার মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে। তাতে বিপাকে পড়েছে ব্যাংকও। ওসব কারণে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়েছে। আর্থিক সংকটে তাদের লিজ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া আমানতের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না। সংকটের কারণে এ বছর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও ৬টি লিজিং কোম্পানি ২০১৮ সালের লভ্যাংশ ঘোষণাই করতে পারেনি। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো পর্ষদ সভাও করেনি। ডিসেম্বর ক্লোজিং লিজিং কোম্পানিগুলোর ২০১৮ সালের আর্থিক হিসাব ও লভ্যাংশ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় নির্ধারিত। তবে ওই সময় পার হয়ে গেলেও এখনো ৬টি লিজিং কোম্পানির আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েই বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বিগ্ন।
এদিকে এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের কয়েকটি লিজিং কোম্পানির পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়। সেগুলো এখন চলতে পারছে না। সেজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনায় যারা রয়েছেন তাদের দুর্নীতি একটি বড় কারণ। তাছাড়া ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ বেশি ও তারল্য সংকট রয়েছে। ফলে লিজিং কোম্পানিগুলো আমানতের মূল উৎস ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছে না। আর খেলাপি ঋণ কমে না এলে এমন পরিস্থিতিতে থেকে উত্তরণও সহজে হবে না।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে লিজিং কোম্পানি আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান জানান, সার্বিক ব্যাংকিং সংকটের প্রভাবের কারণে লিজিং কোম্পানিগুলো কিছুটা সংকটে পড়েছে। ৫/৬টি লিজিং কোম্পানির পরিস্থিতি অনেকটাই খারাপ। কয়েকটির খেলাপির পরিমাণ ২০ শতাংশও বেশি রয়েছে। তারা ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সব নিয়মকানুন মানেনি। ফলে খুবই সংকটের মধ্যে পড়েছে। তবে সব লিজিং কোম্পানি যে খারাপ পরিস্থিতিতে আছে তা সঠিক নয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত