শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৯ এএম
প্রকৃতির পরিবর্তন আমাদের মনকে নানভাবে দোলা দেয়। ঋতু পরিবর্তন আমাদের মনের ওপর বিরাট একটা প্রভাব ফেলে। ভেবে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে অফিসিয়ালি আমার জন্য এবার কানাডায় ১৮ নভেম্বর, ২০০৫ এ প্রথমবারের মতো এখানকার ভয়ঙ্কর শীতকাল শুরু হয়ে গেল। সবাই ভয়ঙ্কর বলে আমাকে ভয় লাগায়।
যদিও আমি ভয় পাওয়ার পাত্র নয়। কেউ কেউ বলেছে কান সাবধান। বাতাসের গায়ে কান দিয়েছেন তো মরছেন। মাইনাস টেম্পারেচারে কানকে বেশিক্ষণ হাওয়া খাওয়ালে কান জমে পাথর হয়ে যাবে। তারপর যদি কোনো রকম ধাক্কা লাগে কান খুলে পড়বে। কি সাংঘাতিক ব্যাপার ভাবুন দেখি। না এপারে এসে যা-ই খোয়ায় কান খোয়ানো যাবে না। ছোট বেলায় মাস্টার মশাইয়ের এত কান মলা খাওয়ার পরও যে কানটি এখনও বহাল তবিয়তে আছে তা এত সহজে হারাতে চাই না। গভীর শীতে সাধের কানে যতটা গট্টি লাগানো সম্ভব লাগাব। শীতের প্রস্তুতি পুরোপুরি না নিতেই শীত বেটা চলে এলো। এখনও উইন্টার বুট, উইন্টার জ্যাকেট ও জুতসহ কানটুপি কেনা হয়নি। বলা যায় সময়ও পাইনি। ওপার বাংলাদেশের অফিসের কাজ শেষ হাতে অগাধ সময় থাকত নষ্ট করার জন্য। কারণ ওখানে ডিশ ওয়াশ ও বাড়ির রান্নার কাজটি করতে হতো না। একবারে করতে হতো না বললে ভুল হবে। সুখের বশে কালেভদ্রে করতাম। কিন্তু টরন্টোতে বাসার রান্নার কাজ, ডিশওয়াশ, কাপড় ধোওয়ার কাজ সব নিজেদেরই করতে হয়। তাতে অবসরের বিরাট একটা অংশ ব্যয় হয়। ওমা দেখুন তো কথায় কথায় আমি আবার অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছি। আমারে সেই ক্রনিক বদঅভ্যেস।
যাক সেদিন ১৮ নভেম্বর আমার জীবনের এক নতুন অভিজ্ঞতা। তুষারপাত। এই তুষারপাত নিয়ে কত জল্পনা-কল্পনা করেছি। কোনোদিন ভাবতেই পারিনি এরকম অপরুপ দৃশ্য স্রস্টা কখনও আমাকে দেখবে। ওপার ঢাকায় থাকতে শৈত্যপ্রবাহের সময় যখন খুব বেশী শীত পড়তো আমার ছেলেকে বলতাম দেখিস কাল থেকে তুষার হবে বরফ পড়বে। ও ভুব ছোট ছিল। বিশ্বাস করতো, বলতো তাই নাকি। এখন এই তুষারপাত আমার ছেলে অভীকের জন্য এক আনন্দময় নতুন অভিজ্ঞতা। সেদিন সকালে উঠেই জানলাম তাপমাত্রা-৪ সেন্টিপ্রেডের কোঠায়। বেলকনিতে গেলাম। যে দৃশ্য চোখে পড়ল তাতে আমার স্বদেশ ফেলে আসা মন কানায় কানায় ভরে উঠলো। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপত্র বর্ষার নতুন জল গায়ে মেখে যেমন আনন্দে মাতোয়ারা হয় তেমনি। তুষারপাতের এই অপরুপ অবর্ণনীয় দৃশ্য প্রকাশ করবার ভাষা আমার নেই। ১৫ তলার বারান্দা থেকে যতদূর দৃষ্টি যায় সাদা সাদা আর সাদা। মনে হলো সমস্ত পৃথিবীজুড়ে আকাশ থেকে নেমে আসছে অগণিত তুষার কণা। গাছের ওপর পড়ছে পায়ে চলার পথে পড়ছে। তুষার পড়ছে গাড়ির ছাদে। এরপর আরো ভালো লেগেছে যখন আমি আমার কর্মস্থলের দিকে রওনা দিয়েছি। পায়ে চলার পথের রাশি রাশি তুষার মাড়িয়ে যাচ্ছিলাম ভিক্টোরিয়া পার্ক স্টেশনের দিকে। তুষারপাতের ভিতর দিয়ে অতিক্রম। তুষারগুলো চোখে-মুখে লাগছিল। যেন ঠান্ডা কোমল আদর বুলিয়ে দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ওরা বলছে ‘ফ্রম আনটলারেবল ডিপ উইন্টার ওয়েলকাম টু কানাডা, ওয়েলকাম টু ওর্য়াল্ড অব স্নো এন্ড আইস’। মনে হচ্ছিল যে কোনো সময় পা পিছলে যাবো। ভয়ে ভয়ে, পা টিপে টিপে হাঁটছিলাম। শুনেছি শীতকালে এ দেশে বরফের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় আছাড় খেয়ে পা ভাঙে। এই বুড়ো বয়সে পা ভাঙলে আর উপায় নেই। জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই। পা হয়তো কাঁধে নিয়েই হাঁটতে হবে। যাক এই প্রথম তুষারপাতের কথা আমার স্মৃতির পাতায় আর যতকাল বেঁচে থাকব উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। প্রথম দেখা, প্রথম পাওয়া যে কোনো আনন্দই অন্যরকম। একটা রহস্যে ঘেরা, অনেক প্রশ্নে ঘেরা। তাইতো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘প্রথম দিনের সূর্য প্রশ্ন করেছিল সত্তার নুতন আবির্ভাব কে তুমি মেলেনি উত্তর? কত প্রশ্নের উত্তরইতো মেলে না। তারপরও উত্তরহীন প্রশ্নগুলো মনের মধ্যে ঢেউ তোলে। এরপরও কথা থেকে যায়। মানুষ। মানুষের নৈকট্য। ভালবাসা, ভাললাগা, বেদনা ও সুখ; আরও কত বিচিত্র নানা মাত্রিক অনুভূতির আদান-প্রদান না ঘটলে, ইংরেজিতে যাকে বলে মানুষের ইন্টার এ্যাকশেন না ঘটলে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য মানুষকে খুব বেশিদিন ভুলিয়ে রাখতে পারে না। এই যে এই প্রবাসে আমি কলমের মাধ্যমে আমার অভিজ্ঞতা আমার চেতনার ঝড়ের একটুখানি ছোঁয়া হয়তো আপনাদের দিতে পারছি কিন্তু আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানতে পারছি কি? ওপার বাংলাদেশ, আমার প্রাণের স্বদেশে কাজ শেষে, অবসরে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছি। প্রকৃতির নানা খেলার সাথে, ঋতু পরিবর্তনের সাথে মানুষের, আমার কাছের মানুষের মনের রঙ বদলের ছোঁয়া দেখে যেভাবে উষ্ণ থেকেছি তেমন কি পারছি এই এপার টরন্টোতে?
ঈদ মানে আনন্দ। প্রিয়জনদের নিয়ে মিলন মেলা। এই যে গত ডিসেম্বরের ২ তারিখ আমাদের রোজার ঈদ নামের বছরের একটি প্রধান উৎসব উদযাপন করলাম। মনকে যতই বুঝ দিই, আমরা যারা এপারে আছি এই ঈদ আসলে কতখানি উপভোগ করতে পেরেছি? হয়তো অন্যদিনের তুলনায় অনেকটা জোড়াতালি গাছের আনন্দ। এই টরন্টো শহরেও আবার দুদল। দুই ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপন করছে। একই শহরে ঈদ নিয়ে এমন ভাগাভাগি এ কেমন কথা? খুব দুঃখ হয় আমরা মুসলমানরা এসব বিষয়ে কবে একমত হব? জোড়াতালি বললাম এ জন্যে কারণ যান্ত্রিক শহরে অনেককেই ঈদের তিন কাজে যেতে হয়েছে। এপারে ঈদ সবাই নির্ধারিত দিনে করতে পারে না। যার যার সুবিধা অনুযায়ী করে। এদশে ক্রিসমাস সরকারি ছুটির দিন হলেও ঈদ, পূজা ইত্যাদি এখনও ছুটির আওতায় আসেনি। আমি ও আমার ছেলে অভীক বাসায় আছি। অভীক সদ্য কেনা কি বোর্ডের পিয়ানোতে সুরের ঝঙ্কার তুলছে। কালো কফি হাতে নিয়ে বসেছি। এই গভীর শতে ভাবছি, ভেবে যাচ্ছি, ভাবতে থাকব এপারে আমার ঈদ কেমন হয়েছে, ওপার বাংলাদেশে কেমন ছিল? কী পেয়েছি আর কি পাইনি।
আশির দশক থেকে প্রাণঘাতী এইচআইভিকে সঙ্গী করে বসবাস করে আসা এক রোগীর শরীর থেকে এই ভাইরাস নির্মূল হয়ে... বিস্তারিত
মহাকাশে নাসার পাঠানো জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এবার ভিনগ্রহে পানির সন্ধান পেয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিত... বিস্তারিত
কাস্পিয়ান সাগর থেকে বেশ কিছুটা ওপরে বাতাসে সাদা কিছু একটাকে ভাসতে দেখা গেছে। এমনই অদ্ভুত একটি বিষ... বিস্তারিত
প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাকপণ্যের ব্যবহার বাড়বে, সরকারের স্বাস... বিস্তারিত
সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আরও চার দিন বেড়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২২ ম... বিস্তারিত
পৃথিবীতে অনেক সৌভাগ্যবান মানুষ আছেন, যাঁদের কোনো দিন কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু এ অ... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত