বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬ ০৭:২১ এএম
বোরো চাষের তুলনায় আউশ আবাদে কৃষকের মুনাফার সুযোগ বেশি। কারণ হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদে একরপ্রতি যেখানে খরচ পড়ে ৫০ হাজার টাকারও বেশি, সেখানে স্থানীয় জাতের আউশ আবাদে কৃষকের একরপ্রতি খরচ পড়ে ৩০ হাজার টাকারও কম। অর্থাৎ আউশ আবাদের ক্ষেত্রে কৃষকের ব্যয়ের পরিমাণ কমে বোরোর তুলনায় প্রায় অর্ধেক কম। তাছাড়া পরিবেশের ওপর আউশের নেতিবাচক প্রভাবও বোরোর তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি আউশ আবাদে ভর্তুকিসহ নানাবিধ প্রণোদনাও দিচ্ছে সরকার। ফলে কৃষকের বোরোর তুলনায় আউশ আবাদেই বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে উচ্চফলনশীল জাতের অভাব, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া
ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এতোদিন ফসলটি আবাদে আগ্রহ হারায় কৃষকরা। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আমন ও বোরো মৌসুমের মধ্যবর্তী সময় ফাঁকা জমিতে আউশ চাষ করে অতিরিক্ত ফলনের সুযোগ থাকলেও ভালো জাতের অভাবে শস্যটি আবাদে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছিল না। পাশাপাশি ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টিও সেক্ষেত্রে বড় একটি ভূমিকা রেখেছে। দেশে প্রচলিত স্থানীয় জাত দিয়ে আউশ আবাদ করায় উৎপাদনশীলতাও অনেক কম। সেজন্য কৃষকরা আউশ আবাদ করে খুব একটা মুনাফা তুলে নিতে পারেনি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির অভাবের কারণে বোরো ধানকেন্দ্রিক বেশকিছু এলাকায় এখন আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগ কমে এসেছে। তবে দেশের অনেক জেলাতেই স্বল্প ব্যয়ে আউশ ধান সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। আউশ চাষে কৃষককে লাভবান করতে হলে উচ্চফলনশীল বীজের সম্প্রসারণ ও সুষম সার ব্যবহার প্রয়োজন। তাছাড়া আউশ আবাদে দেশীয় ফসলে ভর্তুকির পাশাপাশি বিদেশী জাত নেরিকা ধানে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। আর ফসলটি আবাদ করতে গিয়ে কৃষকরা অনেক সময়েই ক্ষতির কবলে পড়ছে। তাতে আউশ নিয়ে আরো বেশি নিরুৎসাহিত হয়েছে কৃষকরা। তবে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে আউশের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পরপর দেশে আউশের উৎপাদন বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তা কমে আসে। বিগত ১৯৭১-৭২ অর্থবছরেও দেশের প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২৩ লাখ ৪১ হাজার টন। পরবর্তী সময়ে তা বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে আউশ ধানের সর্বোচ্চ আবাদ হয়েছে। ওই সময়ে দেশের ৩৪ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়েছিল। তবে ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়। ওই সময়ে উৎপাদন দাঁড়ায় ৩২ লাখ ৮৭ হাজার টনে। ওই বছর আউশের আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ৩৪ হাজার একর। কিন্তু পরবর্তী এক দশক উৎপাদন আটকে থাকে ৩০ লাখ টনের ঘরেই। আবাদের পরিমাণেও খুব একটা হেরফের দেখা যায়নি। তবে ১৯৯০ সালের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে আবাদ ও উৎপাদন কমতে থাকে। এরপর ২০১০-পরবর্তী সময়ে আউশের আবাদ ও উৎপাদনে আবারো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দেয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে আউশের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ লাখ ১০ হাজার টনে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ লাখ ৩৩ হাজার টন। একই সঙ্গে আবাদি এলাকাও এখন কিছুটা বাড়তির দিকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে আউশের আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪১ হাজার ৭০০ একর। গত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৭-১৯ সালে তা বেড়ে ১০ লাখ ৭৬ হাজার একরে দাঁড়ায়।
সূত্র আরো জানায়, পরিবেশগত দিক ও কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় আউশ আবাদ বাড়ানো প্রয়োজন। সেজন্য ভর্তুকি সহায়তার পাশাপাশি উন্নত জাতের মাধ্যমে কৃষককে আরো উৎসাহিত করা জরুরি। বর্তমানে যে পরিমাণ টাকা কৃষককে দেয়া হচ্ছে তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও তদারক করতে হবে। আবার ওই টাকা কৃষককেই দেয়া হচ্ছে কিনা সেটিও দেখতে হবে। ভর্তুকির টাকার সঠিক ব্যবহার করা গেলে প্রতিনিয়তই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে প্রতি কেজি বোরো আবাদে পানির প্রয়োজন পড়ে প্রায় ৩ হাজার ২০০ লিটার। সেচের জন্য এ বিপুল পরিমাণ পানি ভূগর্ভ থেকে টেনে আনতে হয়। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ায় পরিবেশে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে সার্বিক দিক বিবেচনায় বর্তমানে বোরোনির্ভরতা কমানোর প্রয়াস নিয়েছে সরকার। দেশের উত্তর, মধ্য ও বরেন্দ্র অঞ্চলের যেসব জেলায় সেচের সুবিধা নেই, ওসব এলাকায় আউশের বিভিন্ন জাত জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের আউশনির্ভর জেলাগুলোতেও একই ধরনের উদ্যোগ চালু রয়েছে। ওসব উদ্যোগের আওতায় কৃষকদের দেয়া হচ্ছে ভর্তুকিসহ নানা ধরনের প্রণোদনা। মূলত কৃষকদের আউশ আবাদে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এর আবাদ এলাকা, হেক্টরপ্রতি ফলন তথা ধানের সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওসব ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে উফশী আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য প্রণোদনা কার্যক্রম ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। দেশের ৬৪টি জেলায় ৪ লাখ ৫৯ হাজার ক্ষদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ওই প্রণোদনা দেয়া হবে। কৃষককে বীজ, ডিএপি ও এমওপি সার, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য মোট ৪০ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকার প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১ বিঘা জমির জন্য একজন কৃষক মোট ৮৭৫ টাকার প্রণোদনা পাবেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, বোরোর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আউশের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য ধরে রাখতে আউশ আবাদ বাড়ানো হবে। উচ্চফলনশীল জাতের আউশ ধান আবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানো হবে। ফলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরো জোরদার হবে। সেজন্য গত কয়েক বছরে শস্যটির আবাদ বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিতকরণ, আবাদের এলাকা বৃদ্ধি, হেক্টরপ্রতি ফলন বৃদ্ধি ও পতিত জমি আবাদের আওতায় আনতে কৃষককে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের কারণে কৃষক আগ্রহী হচ্ছে। তাছাড়া ফলন বাড়াতে এখন বিভিন্ন উন্নত জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি তা কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণও করা হচ্ছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত