মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:২৮ এএম
আজ ২৪ এপ্রিল সেই ভয়ানক দিন। সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডির ছয় বছর। ২০১৩ সালের এই দিনে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১ হাজার ১৩৮ জন। আর আহত হয় দুই হাজারেও অধিক বেশি মানুষ। যাদের প্রায় সবাই ছিলেন বস্ত্র শিল্পী।
ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে নিহত শ্রমিকদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁরা রানা প্লাজা ধসের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের দাবি জানান।
বুধবার সকালে সাভারের রানা প্লাজার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁদের পাশাপাশি সেখানে হাজির হন দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। এ উপলক্ষে সেখানে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
পরে বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন রানা প্লাজার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন থেকে এ সময় তাঁরা অবিলম্বে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ফাঁসির দাবি জানান।
এ ছাড়া ১১ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে রানা প্লাজার সামনে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। শ্রমিকদের ১১ দফা দাবিগুলো হচ্ছে- রানা প্লাজার সব ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, সকলকে পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসাসেবা, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় রানা প্লাজা শোক দিবস ঘোষণা, আহত ও নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব, সব আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি ও তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত, উদ্ধারকর্মীদের চিকিৎসা করাসহ আরো বেশ কয়েকটি দাবি। রানা প্লাজা সার্ভাইবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিদয় জানান, তাঁদের দাবিগুলো মানা না হলে তাঁরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করে যাবেন। অনশনে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রানা প্লাজার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিবছরের মতো এবারেও সোহেল রানাসহ সকল দোষীদের শাস্তির দাবিতে কাফন মিছিল করে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। হার্টিকালচার সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাফন মিছিল সাভারের রাজপথ প্রদক্ষিণ করে রানা প্লাজার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। রানা প্লাজায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্তি পথ সভায় তাসলিমা আখতার বলেন, সারা দুনিয়ার কারখানার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শ্রমিক হত্যার ঘটনা ঘটে রানা প্লাজায়, প্রায় ১১৭৫ জনের অধিক শ্রমিক নিহত হন।
প্রায় আড়াই হাজার আহত শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয় যাদের একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, স্থায়ী ট্রমায় আক্রান্ত হয়ে অকর্মন্য হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এত প্রাণ হত্যার পরেও ২৪ এপ্রিলকে যথাযথ মর্যাদায় আজো পালন করা হয় না রাষ্ট্রীয়ভাবে।
বিজিএমইএ বা মালিকদের পক্ষ থেকে নূন্যতম শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করতে আসে না। ৪৪ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিক এ দিনকে শোক ও শ্রমিক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালন ও সকল কারখানায় ছুটি দাবি করলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি, রানা প্লাজার জায়গাকে অধিগ্রহণ করে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার। কিন্তু কোনো স্মৃতিস্তম্ভ তো নির্মাণ করা হয়নি, উপরন্তু রানা প্লাজার ভ‚মি আজ বেদখল হতে বসেছে। চারপাশের সীমানা ঠেলে ভেতরে চলে আসছে। তাসলিমা আখতার আরো বলেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত মালিকের অবহেলায় যতগুলো দুর্ঘনা ঘটেছে আজ পর্যন্ত তার একটিরও বিচার হয়নি।
সকল ক্ষেত্রে অবহেলা অব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত শ্রমিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রানা প্লাজা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে নির্মম, সবচেয়ে প্রাণধ্বংসী। ১১৭৫ জন শ্রমিক হত্যার ঘটনার পরও সোহেল রানা, কারখানাগুলোর মালিক, ভবন পরিদর্শক, অনুমোতি দাতা কারোই বিচার হয় নাই। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে নিহত হন এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক, আহত হন কয়েক হাজার। আহত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনো কাজে ফিরতে পারেনি। কেউ কেউ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন। ঘটনার ছয় বছর অতিক্রম হলেও হতাহতদের পরিবারের অনেকে এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। পাশাপাশি এখনো কর্মহীন রয়েছেন বেঁচে যাওয়াদের অনেকে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের প্রায় ৫১ শতাংশ এখনো কর্মহীন রয়েছেন এবং অনেক হতাহতদের পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। এখনও অনেকে সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অনেকে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। প্রথমে কিছু সাহায্য পেলেও এখন আর কেউ তাদের খোঁজ নেয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। রানা প্লাজার ছয়তলায় ইথার টেক্স কারখানায় অপারেটর পদে কাজ করতেন শিলা বেগমসহ (৩১) অনেকে।
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কারখানাটিতে কাজ করছিলেন। ভালই চলছিল সংসার। আচমকা ধসে আমার সব শেষ হয়ে গেল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা পড়েন তিনি। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধারকর্মীরা তাকে খুঁজে পান। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। শিলা বলেন, প্রথমে কিছু টাকা পেলেও সেই টাকায় আমার চিকিৎসাও ঠিকমত হয়নি। টাকার অভাবে সন্তানের লেখাপড়াও বন্ধের পথে। কোনো রকম দুমুঠো খেয়ে বেঁচে আছি। টাকার অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। রওশন আরাও (৩৫) একই কারখানায় কাজ করতেন।
তিনি বলেন, নিজে কাজ করতে পারি না আবার চিকিৎসার ব্যয়। টাকার অভাবে দুই সন্তানকে এতিমখানায় ভর্তি করেছি। রিকশাচালক স্বামীর টাকায় চলছে চিকিৎসা। চিকিৎসা ঠিকমত হয় না। তার ওপর কেমো দিতে হয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ধসের বর্ষপূর্তিতে সাংবাদিকরা আসেন। কিন্তু যাদের জন্য আজ আমাদের এ অবস্থা তারা কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না। এনজিও কারিতাস একটা গরু দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত পাইনি। যে কয়দিন বাঁচব, কেমো দিয়ে বাঁচতে হবে। ভবনের আটতলায় নিউ স্টাইল কারখানায় কাজ করতেন ২৮ বছর বয়সী ছালমা বেগম। ভবন ধসে কোমরে ওপর বিম পড়লে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে যায়। সকালের ঘটনা। সন্ধ্যায় আমাকে উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। যখন আমার জ্ঞান ফেরে তখন আমি হাসাপাতালে। কিছু টাকা পেলেও তা দিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। আবার বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামী বাক্কার আমাকে ফেলে চলে যায়। এখন অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধের পথে। শুধু সিআরপিতে ফ্রি থেরাপি দিয়ে বেঁচে রয়েছি।
ডাক্তার বলছে, আমি আর কোনো দিন কাজ করতে পারব না। তাহলে আমি কী করব। আটতলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল কারখানায় কোয়ালিটি ইন্সপেকটর পদে কাজ করতেন মাহমুদুল হাসান হৃদয় (৩২)। মাহমুদুল বলেন, চাকরির মাত্র ১৪ দিনের মাথায় ভবন ধসে পড়ল। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আমার সুখশান্তি। উদ্ধারকর্মীরা ২০ ঘণ্টা পর আমাকে উদ্ধার করলেও মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে আজ আমি পঙ্গু হওয়ার পথে।
তাৎক্ষণিকভাবে অল্পকিছু যা সহযোগিতা পেয়ে তা দিয়ে ঠিকমত চিকিৎসাও করাতে পারিনি। এখন পৌরসভার ছায়াবিথি এলাকায় ছোট্ট একটা ফার্মেসি দিয়ে বসে থাকি। শুধু বসে বসে সময় কাটাই। রানা প্লাজায় আহত ৩০০ শ্রমিক নিয়ে ‘সাভার রানা প্লাজা সারভাইভারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন করেছেন মাহমুদুল। তিনি বলেন, সংগঠনটির সভাপতি আমিই। আমাদের কোনো পুঁজি নেই। একটি মাটির ব্যাংক আমাদের পুঁজি। ব্যাংকে যে যা পারে রেখে দেয়। পরে বিশেষ কোনো কাজে সেই ব্যাংক ভেঙ্গে বিশেষ বিশেষ দিনে সাহায্য-সহযোগিতা করি। ছয় বছর আগের এই ধস সাম্প্রতিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা।
এখানে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও সাধারণ জনগণ। ভবনটিতে কয়েকটি পোশাক কারখানা, একটি ব্যাংক ও একাধিক সাধারণ দোকান ছিল। ধসের আগে ফাটল দেখা দেওয়ায় সতর্কবার্তাও ছিল। সতর্কবার্তা উপেক্ষা চলানো হয় পোশাক কারখানাগুলো। এ দুর্ঘটনার পর বেশ কিছু মামলা হয়। ছয় বছরে মাত্র একটি মামলার রায় হয়েছে। হত্যা মামলাসহ বাকি সব মামলাই বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
In an interview with UN News, UN Human Rights Council-appointed expert Francesca Albanese, said it was “impossible to describe the pain and suffering that Israelis are going through because of what happened to them...because there are not only those who wer... বিস্তারিত
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে অর্গানিকো কেয়ার নামক একটি কোম্পানির ‘ঘি’ -এর মান ... বিস্তারিত
ব্যবসায়ীদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের দেশ ও মানুষে... বিস্তারিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আলাদা কার্য... বিস্তারিত
এক বছর আগে ঘোষিত দরের চেয়ে ১-২ টাকা বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কেনায় ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্... বিস্তারিত
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জন... বিস্তারিত
চোখের ইশারায় খুলে যাবে অ্যাপ, আঙুলে ছুঁয়ে সরাতে হবে স্ক্রিন। মাথা নাড়ালেই হবে অনেক কাজ। প্রযু... বিস্তারিত